1. admin@b-desh.news : admin :
  2. : itsme :
  3. : wp_update-Yo7x9NAv :
মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

দেখা মিলবে সুবর্ণ আলোর রেখার?

রিপোর্টারঃ
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

ডা. সেলিম শাহেদ
বি-দেশ নিউজ, ঢাকা:


কোভিড-১৯ এর প্যান্ডেমিকে আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থার যে পরিবর্তন হলো সেটা চোখে পড়ার মতো।

যেকোনো থ্রেটে সামগ্রিকভাবে সমাজ কিভাবে রেসপন্স করে তার একটা হাতে কলমে পরীক্ষাও হয়ে যাচ্ছে বটে। সহজ, সুন্দর আয়েসসাধ্য কাজ করতে কী পরিমান মোটিভেশান এবং কন্ডিশনিং লাগে তা এই করোনা না আসলে বোঝা যেতো কিনা যথেস্ট সন্দেহ।

মুখের এক ইঞ্চি উপরে নাকের মাস্কটা ঠিক মতো আছে কিনা সেটার সেন্সিটিভিটি বা সংবেদনশীলতা এদেশের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, রাজনৈতিক নেতা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ছাত্র, কাজের বুয়া, কৃষক, শ্রমিক, ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা, সাংবাদিক কারোরই নেই।

এটা যদি একটা ‘উন্নয়নের সূচক’ ধরেন এখানেও আমরা পাশ তো দুরের কথা লজ্জাজনক ভাবে ফেল করবো। অথচ এটা ইফোর্টলেস এবং সহজেই বাস্তবায়ন করে দেশের জিডিপি, ভাবমূর্তি, উন্নতিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। অথচ এই সহজ কাজটা করতেই আমরা পারছি না।

আসলেই ডান হাত দিয়ে খাওয়া আর বাঁ হাত দিয়ে শৌচকর্ম করা যত সহজ ভাবি, আদতে ততটা না। এজন্য রিফ্লেক্স আয়ত্ত করা, কন্ডিশনিং এবং মোটিভেশান দরকার।

করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। কারো কারো জন্য ব্যাপারটা ঈদের মতো। আসলেই খরচ, খরচ মানেই টাকা। টাকা মানেই পার্সেন্টেজ। বেগম পাড়ায় নতুন দালান।


ধরেন, আপনি করোনা উপলক্ষে একটা পালস-অক্সিমিটার কিনলেন, বিপি মেশিন কিনলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনলেন। করোনা শেষ হয়ে গেলো। করোনা উপলক্ষে কেনা জিনিসগুলোও নাই হয়ে গেলো। জড় বস্তুর তো আর হাত পা নেই। আসলে আপনার অর্থের বিনিময়ে কেনা জিনিসগুলো ট্র‍্যাক করে বিকল্প ব্যবহারের উপায় খুঁজলেন না। আপনার মনে হলো আবার হলে আবার কিনবেন।

এধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ভাবেই ঘটে না। আরো বড় পর্যায়েও হয়।সম্পদ কেনা হয় কিন্তু এগুলোর সদ্ব্যবহার করা হয় না, ব্যবহারের পর বহু মূল্যবান যন্ত্রপাতি অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়।

আমাদের দেশে জিনিস নতুন কেনার ব্যাপারে যতটা আগ্রহ, পুরনোটাকে মেইনটেইন করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ নেই। অথচ আমাদের দেশের ভেতর আমাদের কলেজেই দেখেছি পুরনো জিনিসকে কিভাবে পরিচর্যা করে নতুনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু মানুষগুলো ভিন্ন।


করোনা নিয়ে আমাদের একমুখী খরচের চিন্তা বাদ দিয়ে বহুমুখী, লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে করোনা পরবর্তীতে প্রযুক্তিগুলো, অবকাঠামোগুলো ব্যবহার করা যায় তার চিন্তা এখন করলেই আখেরে ভালো হবে।

করোনাকেন্দ্রিক ভার্চুয়াল পড়াশোনার যে প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে আমাদের দেশে কিভাবে এটাকে একটি লাগসই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে ভবিষ্যতের জন্য তার চিন্তা এখনই করা উচিৎ।না করলে এত কোটি কোটি টাকার সম্পদ পরে ভাংগারি দোকানে সের দরে বিক্রি করতে হবে।


করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে যদি প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়ে অধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে তাহলে বুঝতে হবে আমরা এই দেড় বছর যে লম্ফজম্ফ করেছি সেটা বাকোয়াজ কিংবা বাহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যদি প্রাণহানি কম হয়, সম্পদের অপচয় কম হয় এবং এ উপলক্ষে কেনা সম্পদগুলোর যদি পরবর্তীতে সুষ্ঠু ব্যবহার হয় তাহলেই বুঝতে হবে সুড়ংগের কিনারায় আছে আলোর সুবর্ণরেখা। বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ একদিন মাথা তুলে দাঁড়াবেই।

ডাক্তার সেলিম শাহেদ
রেজিস্টার (মেডিসিন)
শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2022 b-desh.news
Theme Customized BY — ANT