নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিয়া মো. মাইনুল কবির লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। গত ২৫ মে লাইবেরিয়ার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোয়াকাই–এর কাছে পরিচয়পত্র জমা দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিচয়পত্র পেশের পর রাষ্ট্রদূত মাইনুল কবির প্রেসিডেন্ট বোয়াকাইয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে লাইবেরিয়ার জনগণ এবং সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার পুনর্গঠনে বিশেষ করে চিকিৎসা ও অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে লাইবেরিয়ার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে কৃষিখাতে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে লাইবেরিয়ায় চুক্তিভিত্তিক কৃষি উদ্যোগের প্রস্তাব দেন। তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রেসিডেন্ট বোয়াকাইকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
জবাবে প্রেসিডেন্ট বোয়াকাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে লাইবেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথেল ডেভিস এবং প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
