পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের সদস্যরা। যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই উদ্যোগ।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজধানী কায়রো ও আশপাশের এলাকা থেকে কোরবানির পশু সংগ্রহ শুরু করে বাংলাদেশি সংগঠনগুলো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুদান এবং দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে এ বছর অন্তত ১০টি বাংলাদেশি সংগঠন অংশ নেয়।
অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে আলহাজ শামসুল হক (এএসএইচ) ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশন, ইলমুন নাহিয়ান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন ফ্রেন্ডশিপ, বিএম শাবাব ফাউন্ডেশন, আত-তাইয়িব ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, মাই ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন।
আলহাজ শামসুল হক (এএসএইচ) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, সংগৃহীত অর্থে উট, গরু ও দুম্বা কোরবানি করে মাংস প্যাকেটজাত করা হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কায়রোর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মানবিক সংগঠন ইউথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম সাকিব বলেন, গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, অনেক শরণার্থী পরিবার সীমিত আয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য এই সহায়তা শুধু খাদ্য নয়, মানবিক সংহতি ও ভালোবাসারও বার্তা বহন করছে।
সহায়তা পাওয়া ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছে, দূরদেশের মানুষের এই সহমর্মিতা তাদের নতুন আশা ও সাহস জুগিয়েছে।
