২৩ ফেব্রুয়ারি, কায়রো, মিশর থেকে
রমজান মাস এলেই মিশর-এর শহরজুড়ে দেখা যায় শতাব্দীপ্রাচীন এক মানবিক আয়োজন—‘মায়েদাতুর রহমান’ (مائدة الرحمن)। বাংলা অর্থে ‘রহমতের দস্তরখান’। পবিত্র এ মাসে রোজাদারদের জন্য উন্মুক্ত এই ইফতার আয়োজন দেশটির সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক, মহল্লা ও মসজিদের সামনে সারিবদ্ধ টেবিল সাজানো হয়। দরিদ্র মানুষ, শ্রমজীবী, পথচারী বা ভ্রমণকারী—যে কেউ এখানে বিনামূল্যে ইফতার করতে পারেন। ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থানের কোনো বিভাজন নেই; বরং এটি এক উন্মুক্ত মানবিক উদ্যোগ।

ইতিহাসবিদদের মতে, মায়েদাতুর রহমানের ধারণা ইসলামি দাতব্য সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বহু শতাব্দী আগে গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু দান-সদকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সামাজিক সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, দাতাগোষ্ঠী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে এ আয়োজন পরিচালনা করেন। কেউ অর্থ দেন, কেউ রান্না করেন, কেউ পরিবেশন করেন। ইফতারে সাধারণত খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার পর পরিবেশন করা হয় কোষাফ, তাজা ফলের রস, মা’হসী, মলোকাইয়া, বামিয়া মা’ লাহমা, ফেরাখ মাহামারা ও এইশ বেলাদীসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার।
আয়োজকেরা বলছেন, মায়েদাতুর রহমান কেবল ক্ষুধা নিবারণের উদ্যোগ নয়; এটি সামাজিক সমতার প্রতীক। একই টেবিলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন—যা আধুনিক নগর জীবনে মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
