আলজিয়ার্স, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আলজেরিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করেছে। রাজধানী আলজিয়ার্স-এ অবস্থিত দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল হুদা জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ‘একুশে প্রভাতফেরি’-তে অংশ নেন। ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
২২ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি খন্দকার এম. তালহার ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত নাজমুল হুদা বলেন, বাংলা ভাষা আন্দোলনই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভিত্তি রচনা করে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশের আত্মত্যাগের ইতিহাসভিত্তিক একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি, যা ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখা এবং বিলুপ্তপ্রায় ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা পর্বে আলজেরিয়ার Tizi Ouzu University-এর বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে মাহগ্রেব অঞ্চলে আমাজিঘ ভাষার ইতিহাস ও প্রভাব নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা নিজ নিজ মাতৃভাষায় পরিবেশনা করেন। বহুভাষিক হস্তলিখন কর্মসূচিতে অতিথিরা নিজ মাতৃভাষায় বাক্য লিখে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগতিক দেশের বিশিষ্টজন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে অতিথিদের স্মারক উপহার দেওয়া হয়।
