২৩ ফেব্রুয়ারি, কায়রো,মিশর থেকে:
রমজান মাসজুড়ে মিশরের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়–এ অধ্যয়নরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার আয়োজন। প্রতিদিন ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদ প্রাঙ্গণে ৬ থেকে ৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আল-আজহারে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি। রমজানে অনেকেরই পছন্দের ইফতারস্থল হয়ে ওঠে আল-আজহার মসজিদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে টোকেনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইফতারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আসরের আজানের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা মসজিদের পূর্ব গেট দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেন। গেটের বাইরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করে দেওয়া হয় অনুমতি টোকেন। নির্ধারিত নিয়মে মসজিদে প্রবেশ করে তাঁরা ইফতারে অংশ নেন।
মাগরিবের আজানের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে ইফতারের সামগ্রী সাজিয়ে দেওয়া হয়। আজানের আগে একজন ক্বারী সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। আজান ধ্বনিত হলে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু হয়। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে পরিবেশন করা হয় বাকি খাবার।
ইফতারের মেন্যুতে থাকে খেজুর, জুস, ভাত, ‘ঈশ বালাদি’ (স্থানীয় রুটি), ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, কোপ্তা, সবজি ও মিশরীয় মিষ্টান্ন।
সুউচ্চ মিনারবেষ্টিত প্রাচীন এই মসজিদের অভ্যন্তরে বিরাজ করে প্রশান্ত পরিবেশ। কাঠের বিভাজিত অংশে নারী শিক্ষার্থীরা ইফতার ও নামাজ আদায় করেন। খোলা প্রাঙ্গণে নামাজ শেষে কেউ কোরআন তেলাওয়াতে, কেউ তাসবিহ পাঠে মগ্ন থাকেন। সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ।
আল-আজহারে অধ্যয়নরত শেরপুরের শিক্ষার্থী আবু সাওবান আকন্দ বলেন, “মাতৃভূমি, পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে বিদেশের মাটিতে রমজান কাটানো কষ্টের। সেহরি ও ইফতারের সময় পরিবারকে খুব মনে পড়ে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একত্রে ইফতার করার অনুভূতি আলাদা।”
রমজানের এ সম্মিলিত আয়োজন শুধু খাবার ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
