জেনেভা, ১২ মার্চ, ২০২৬:
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের প্রতি শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যানড্রুজ এ আহ্বান জানান।
‘নাইন ইয়ার্স অন: অ্যাডভান্সিং অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড জাস্টিস ফর দ্য ডিউরেবল সলিউশন অব দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস’ শীর্ষক এক সাইড ইভেন্টে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। এতে মানবিক দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মিয়ানমারের ভেতরে এমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের চলমান ৬১তম অধিবেশনের মার্জিনে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থায়ী ডেলিগেশন যৌথভাবে এই সাইড ইভেন্টের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে নিহিত এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
গাম্বিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহাম্মাদু কাহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
এক ঘণ্টাব্যাপী এই সাইড ইভেন্টে ৩০টিরও বেশি সদস্য রাষ্ট্র এবং জেনেভাভিত্তিক বিভিন্ন নাগরিক সমাজ, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
