২০ মার্চ, ২০২৬:
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মিশরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব।
শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে দেশজুড়ে মসজিদ থেকে ভেসে আসে তাকবিরের ধ্বনি, যা চারপাশকে মুখর করে এক অপার্থিব আবহ সৃষ্টি করে। রাজধানী কায়রোসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সূর্যোদয়ের পর একযোগে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত ও খুতবা। মিশরে ছোট-বড় মসজিদের পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণ ও উন্মুক্ত স্থানে জামাতের আয়োজন করা হয়।

রাজধানীর ইসলামিক কায়রো এলাকার বিখ্যাত আল-আজহার মসজিদ, ইমাম হোসেন ও অমর-ইবনুল-আস মসজিদ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লি ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্থানীয় মসজিদ ও খোলা মাঠে পরিবারের সঙ্গে নামাজ আদায় ও অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকেন।
মিশরে এবারের ঈদ উপলক্ষে চারদিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট ছয়দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বহু বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দেন। নীলনদের দেশে ঈদুল ফিতরের বিশেষ মিষ্টান্ন হিসেবে জনপ্রিয় ‘কা’হক’ ছাড়াও বিভিন্ন দেশীয় খাবার উৎসবের আনন্দ বৃদ্ধি করে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে উদযাপিত হয়েছে মিশরের পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ধরা দিয়েছে।
