লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে:
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থিত আলতাব আলী পার্ক-এ নির্মিত শহীদ মিনার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগর জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এই স্মৃতিস্তম্ভ একুশের চেতনা ধারণ করে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এখানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ ফুল নিয়ে উপস্থিত হন শহীদ মিনারে। বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হেমলেট এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে প্রাঙ্গণটি পরিণত হয় আবেগঘন মিলনমেলায়।

পার্কটির নামকরণ করা হয়েছে আলতাব আলীর নামে, যিনি ১৯৭৮ সালে বর্ণবাদী হামলায় নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ড ব্রিটেনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ফলে এই পার্ক কেবল ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিই বহন করে না, বরং বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের তরুণদের কাছে এই শহীদ মিনার ইতিহাস ও পরিচয়ের এক জীবন্ত পাঠশালা। আয়োজকরা জানান, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এই স্মৃতিস্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কমিউনিটি নেতারা বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব সত্ত্বেও ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের বন্ধন অটুট রয়েছে। লন্ডনের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই শহীদ মিনার প্রমাণ করে—ভাষার চেতনা কোনো সীমান্ত মানে না।
প্রবাসের মাটিতে একুশের এই স্মৃতিস্তম্ভ তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সম্মিলিত গৌরবের স্থায়ী স্মারক।
