মুম্বাই, ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, মুম্বাই-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাণী পাঠ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মিজ ফারহানা আহমেদ চৌধুরী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। পরে অমর ভাষা সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’ গানের সঙ্গে অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ভাষা শহিদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সমাপনী বক্তব্যে উপ-হাইকমিশনার মিজ ফারহানা আহমেদ চৌধুরী মহান ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের অস্তিত্ব, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় বারবার আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
উদযাপনের শেষভাগে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় দেশাত্মবোধক সংগীত ও কবিতা পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
