টোকিও, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিও’র উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। অমর একুশের চেতনায় আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বন্ধুদের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
দিবসের প্রথম প্রহরে ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্ক-এ অবস্থিত স্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং তোশিমা সিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের প্রবাসীরা প্রভাতফেরির মাধ্যমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করেন রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী। এ সময় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। পরে দূতাবাস মিলনায়তনে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনা সভায় অমর একুশের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশ্বজনীন গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী তার বক্তব্যে বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, যা বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীকে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করে।”
সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সুধীজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
