প্রতিনিধি
কুয়ালালামপুর, ২০ আগস্ট ২০২৫:
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি’ ও ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস’।
১৯ আগস্ট, মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে হাইকমিশনের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জুলাই বিয়োন্ড বর্ডার্র’।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত গ্রাফিতি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদর্শনীটি আগামী সপ্তাহজুড়ে হাইকমিশনে আগত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
পরে উপস্থিত অতিথিদের জন্য দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। একটি ছিল অভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে এবং অন্যটি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান নিয়ে।
হাইকমিশনার শামীম আহসান তাঁর বক্তব্যে অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু করা হয়েছে।
হাইকমিশনার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিরাজ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শ্রমবাজার ও অভিবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জানানো হয়, হাইকমিশনের সেবা কার্যক্রমকে আরও সহজ করতে ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্ট অফিস ও ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
